সিএএ-র ভাগ্য নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট! ৫ মে থেকে শুরু মেগা শুনানি, কাঁপছে জাতীয় রাজনীতি

নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ২০১৯-এর ভবিষ্যৎ এবার নির্ধারিত হতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত এই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা একাধিক আবেদনের শুনানিতে সম্মতি দিয়েছে। পিটিআই সূত্রের খবর, আগামী ৫ মে থেকে এই ঐতিহাসিক মামলার শুনানি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সংসদে বিলটি পাশ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তা আইনে পরিণত হয়। এই আইনের মূল ভিত্তি হলো— ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি ও খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান।

মামলাকারীদের মূল অভিযোগ:
আইইউএমএল (IUML), মহুয়া মৈত্র, জয়রাম রমেশ এবং আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাঁদের দাবি:

ধর্মীয় বৈষম্য: মুসলিম শরণার্থীদের এই আইনের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধানের সাম্যের অধিকার লঙ্ঘন করে।

অস্পষ্টতা: মায়ানমারের রোহিঙ্গা বা পাকিস্তানের আহমদিয়া মুসলিমদের নিয়ে আইনে কোনও উল্লেখ নেই।

অধিকার হরণ: জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সাংবিধানিক নৈতিকতার পরিপন্থী।

কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য আগেই হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে যে, সিএএ কোনও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ করছে না। এর আগে ২০২২ সালে স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করেছিল আদালত। তবে ৫ মে-র শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ শীর্ষ আদালতের রায় ভারতের নাগরিকত্ব নীতি এবং সাংবিধানিক পরিকাঠামোয় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy