১০০ দিনের কাজে কোটি কোটি টাকার তছরুপ! মালদহে এফআইআর করে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

ফের একবার রাজ্যের একশো দিনের কাজের প্রকল্পে দুর্নীতির পাহাড় সামনে এল। এবার ঘটনাস্থল মালদহ জেলা। পঞ্চায়েত স্তরে ১০০ দিনের কাজে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে কার্যত বিস্ফোরক পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই দুর্নীতির ঘটনায় অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করতে হবে এবং দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে দোষীদের খুঁজে বের করতে হবে। আদালতের এই কড়া মনোভাবে জেলা প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মালদহের একটি নির্দিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে এমন সব মানুষের নাম ব্যবহার করা হয়েছে যারা কোনোদিন কাজই করেননি। এমনকি অভিযোগ উঠেছে, মৃত ব্যক্তিদের নামও মাস্টার রোলে ঢুকিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরে এই দুর্নীতির প্রতিবাদ জানালেও জেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, সরকারি আধিকারিক এবং পঞ্চায়েত সদস্যদের যোগসাজশ ছাড়া এই পর্যায়ের জালিয়াতি অসম্ভব।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, সাধারণ মানুষের হকের টাকা এভাবে নয়ছয় করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জেলা পুলিশ সুপারকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং আগামী শুনানির আগে প্রগতি রিপোর্ট পেশ করতে হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে জড়িত জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হওয়া নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, তখন মালদহের এই নতুন দুর্নীতির খবর নবান্নের অস্বস্তি আরও বাড়াল। রাজনৈতিক মহলের মতে, হাইকোর্টের এই হস্তক্ষেপের পর জেলার অন্যান্য পঞ্চায়েতগুলোর কাজের ওপরেও নজরদারি বাড়বে। দুর্নীতি দমনে হাইকোর্ট যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে, মালদহের এই ঘটনা তারই বড় প্রমাণ। এখন দেখার, পুলিশের এফআইআর-এ কার কার নাম সামনে আসে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy