পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের রণকৌশল কী হবে? বামেদের সঙ্গে কি ফের জোট হবে, নাকি দল নিজের শক্তিতে লড়বে? এই প্রশ্ন যখন রাজ্য রাজনীতিতে ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক তখনই কোচবিহারে এক হাইভোল্টেজ বৈঠকে বড়সড় ইঙ্গিত দিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার কোচবিহারে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন এআইসিসি-র বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশী। সেই বৈঠকের নির্যাস একটাই— নিচুতলার কর্মীরা আর জোটের স্বার্থে নিজেদের প্রতীকে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হতে রাজি নন।
বৈঠক শেষে প্রকাশ যোশী স্পষ্ট করেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে জোটের কারণে অনেক আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দিতে পারেনি। ফলে ওই এলাকার কয়েক প্রজন্মের কংগ্রেস সমর্থকরা ব্যালটে ‘হাত’ চিহ্ন খুঁজে পাননি। এতে দলের সাংগঠনিক কাঠামো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনই সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম হতাশা। যোশী বলেন, “সমর্থকদের সেই আবেগ আমরা অনুভব করছি। কর্মীরা চাইছেন সব আসনে নিজেদের প্রতীকে লড়তে। এই দাবি আমরা হাইকমান্ডকে জানাব।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গে একসময় কংগ্রেসের শক্তিশালী গড় ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে বামেদের সঙ্গে জোটের অঙ্কে আসন ছাড়তে গিয়ে সেই জমি অনেকটাই হারিয়েছে দল। কোচবিহারের মতো জেলাগুলোতে কর্মীরা প্রকাশ্যেই ‘একলা চলো’ নীতির পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁদের দাবি, জোট করে লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না, উল্টে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে।
প্রকাশ যোশীর এই সফর এবং জেলা ভিত্তিক মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত ‘একলা চলো’ নীতি গ্রহণ করে, তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে লড়াই যে চতুর্মুখী হতে চলেছে, তা নিশ্চিত। বামেদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কংগ্রেস কি উত্তরবঙ্গে হারানো জমি ফিরে পাবে? নাকি ভোট ভাগাভাগিতে ফায়দা তুলবে বিজেপি বা তৃণমূল? কোচবিহারের এই বৈঠকের পর এখন সারা রাজ্যের নজর দিল্লির সিদ্ধান্তের দিকে।