বর্তমানের কর্পোরেট দুনিয়ায় যখন ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’ বা কর্ম ও জীবনের ভারসাম্যের দাবি তুঙ্গে, তখন ভারতের শিল্প জগতের ধ্রুবতারা রতন টাটার একটি গভীর দর্শন ফের চর্চায় উঠে এসেছে। রতন টাটা বলতেন, “আমি কর্ম-জীবনের ভারসাম্যে বিশ্বাস করি না, আমি কর্ম-জীবনের একতায় (Work-Life Integration) বিশ্বাস করি।” ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দাঁড়িয়েও তাঁর এই উক্তি পেশাদার দুনিয়ায় এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
অনেকেই তাঁর এই উক্তিটিকে অবিরাম কাজ করা বা নিজের ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দেওয়া বলে ভুল করেন। কিন্তু রতন টাটার দর্শনের গভীরতা ছিল অন্য জায়গায়। তাঁর মতে, কাজ এবং জীবন দুটি আলাদা কক্ষপথ নয় যে তাদের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হবে। বরং, কাজ যদি জীবনের একটি অর্থবহ অংশ হয়ে ওঠে এবং জীবন যদি কাজের গুণমানকে সমৃদ্ধ করে, তবেই প্রকৃত সাফল্য আসে। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, আপনার কাজ কি আপনার জীবনে কোনো মূল্য যোগ করছে? আবার আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কি আপনার কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে? এই দুইয়ের মেলবন্ধনই হলো ‘একতা’। যখন কাজ আর বোঝা মনে হয় না, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য আনন্দ হয়ে ওঠে, তখনই মানুষ উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছাতে পারে। টাটার এই দর্শন আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।