বনগাঁর সেই বিতর্কিত মাচা অনুষ্ঠান ঘিরে সংঘাত এবার আদালত পর্যন্ত গড়াল। অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং সম্মানহানির অভিযোগ তুলে ২০ লক্ষ টাকার মানহানির মামলা করেছিলেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রী। বৃহস্পতিবার সেই আগুনেই ঘি ঢাললেন মিমি। তনয়ের মামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ২ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ। টলিউডের অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এই মেগা আইনি লড়াইয়ের গুঞ্জন।
তনয়ের ২০ লক্ষের দাবি ও অভিযোগ সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েই মিমির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তনয় শাস্ত্রী। তাঁর দাবি, গত ২৫ জানুয়ারি বনগাঁর অনুষ্ঠানে মিমির আসার কথা ছিল রাত ৯টায়, কিন্তু তিনি পৌঁছান রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে। নিয়ম অনুযায়ী রাত ১২টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হওয়ায় তনয় মিমিকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। তনয়ের অভিযোগ, “মিমি অকারণে আমার নামে মিথ্যে মামলা করে আমায় জেলে পাঠিয়েছেন। আমার সামাজিক সম্মান নষ্ট হয়েছে।” এই ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ লক্ষ টাকা দাবি করার পাশাপাশি মিমির নেওয়া ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিকও ফেরত চেয়েছেন তিনি।
মিমির ২ কোটির পাল্টা চাল ও আল্টিমেটাম তনয় শাস্ত্রীর এই পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন মিমির আইনজীবী। মিমি জানিয়েছেন, তিনি একজন জাতীয় স্তরের তারকা এবং তাঁকে জোর করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে। অভিনেত্রীর দাবি, তনয়কে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মিমির বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে হবে এবং প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় ২ কোটি টাকার মানহানির মামলার লড়বেন তিনি। মিমির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সম্মানের প্রশ্নে তিনি এক চুলও জমি ছাড়বেন না।
ঘটনার সূত্রপাত জানুয়ারি মাসের শেষে বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়ে তনয় শাস্ত্রীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছিলেন মিমি। মিমির অভিযোগ ছিল, তাঁকে অসভ্যভাবে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তনয়কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহ জেল হেফাজতে থাকার পর মিমির জন্মদিনের দিনই জামিন পান তিনি। জেল থেকে বেরিয়েই তনয় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, “এর শেষ দেখে ছাড়ব।” আজকের এই আইনি লড়াই সেই হুঁশিয়ারিরই ফল বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহল।