কোচবিহারের সীমান্তবর্তী শহর দিনহাটা ফের একবার উত্তপ্ত। এবার এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে রহস্য। পুলিশের জালে ধরা পড়া ওই যুবকের অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যের শাসক দলকে বদনাম করতেই কি তবে এই অনুপ্রবেশের ছক কষা হয়েছে?
পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেফতার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দিনহাটার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই সন্দেহভাজন এক বাংলাদেশি যুবককে আটক করা হয়। বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করলেও, কার মদতে বা কেন সে এপারে এসেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এর পেছনে কোনো বড়সড় চক্র বা নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ এই গ্রেফতারির পর থেকেই দিনহাটার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি এবং বিরোধী শিবির পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে এলাকায় অশান্তি ছড়াতে চাইছে। এক নেতার কথায়, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতেই এই বাংলাদেশি যুবককে ব্যবহার করার ছক কষা হয়েছিল। আমরা চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে পর্দার পেছনের রাঘব বোয়ালদের খুঁজে বের করুক।” যদিও বিরোধীরা এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সীমান্তে কড়া নজরদারি দিনহাটা ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনেও দানা বেঁধেছে আতঙ্ক। প্রশ্ন উঠছে, বিএসএফ-এর কড়া পাহারা এড়িয়ে কীভাবে ওই যুবক সীমান্ত পার হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ল? পুলিশ বর্তমানে ওই যুবককে রিমান্ডে নিয়ে জেরা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক যোগসাজশ নাকি নিছকই অনুপ্রবেশ, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়।