সামনেই ভোট, আর তার আগেই রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য সুখবর শোনাল প্রশাসন। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে অবশেষে মিড-ডে মিলের (Mid-Day Meal) বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামান্য হলেও এই বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে এখন থেকে স্কুলের ছোট ছোট পড়ুয়াদের দুপুরের খাবারের পাতে পুষ্টিকর ডিম কিংবা ফল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপে হাসি ফুটেছে কয়েক লক্ষ পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মুখে।
কত বাড়ল বরাদ্দ? এতদিন পর্যন্ত মিড-ডে মিলে প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মাথা পিছু বরাদ্দ ছিল ৬ টাকা ১৯ পয়সা। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সেই বরাদ্দ ৫৯ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। যদিও টাকার অঙ্কটি শুনতে সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু কয়েক লক্ষ পড়ুয়ার সামগ্রিক হিসেব করলে এটি একটি বড় অংকের বিনিয়োগ। স্কুল কর্তৃপক্ষগুলোর আশা, এই বর্ধিত বরাদ্দের ফলে চাল-ডাল ছাড়াও খাবারের গুণমান এবং পরিমাণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
পাতে আসবে ডিম ও ফল পুষ্টিবিদদের মতে, ক্রমবর্ধমান বাজারে ৬ টাকা ১৯ পয়সায় পুষ্টিকর খাবার দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। নতুন বরাদ্দ কার্যকর হলে সপ্তাহে অন্তত একদিন বা দু’দিন ডিম বা ঋতুভিত্তিক ফল পড়ুয়াদের পাতে দেওয়া সহজ হবে। বিশেষ করে গ্রামবাংলার যে সমস্ত পড়ুয়ারা সরকারি স্কুলের এই খাবারের ওপর নির্ভরশীল, তাদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই সিদ্ধান্ত সহায়ক হবে।
ভোটের রণকৌশল না জনকল্যাণ? রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ভোটের ঠিক মুখেই এই বরাদ্দ বৃদ্ধি আসলে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা। তবে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষক সংগঠনগুলো মনে করছে, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পড়ুয়াদের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত আরও আগে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। এখন বরাদ্দ বৃদ্ধির পর প্রতিটি স্কুলে যাতে খাবারের মান বজায় থাকে, সেদিকে কড়া নজরদারি চালাবে প্রশাসন।