ভারতের দুই ধনকুবের মুকেশ আম্বানি এবং গৌতম আদানির লড়াই এবার আরও একধাপ উপরে। এবার তাঁদের যুদ্ধের ময়দান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং আদানি গ্রুপের পক্ষ থেকে যে ঘোষণা করা হয়েছে, তা দেশের প্রযুক্তিগত মানচিত্র বদলে দিতে পারে।
আম্বানির ১০ লাখ কোটির মেগা প্ল্যান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ আম্বানি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামীর বিশ্ব এআই-এর দখলে। আগামী ৭ বছরে দুটি বিশেষ ক্ষেত্রে ১০ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে রিলায়েন্স। এর মূল লক্ষ্য হলো শক্তিশালী এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি করা এবং ‘এজ কম্পিউটিং’ (Edge Computing)-এর প্রসারে ভারতকে স্বনির্ভর করা। জিও-র বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ভারতীয়র হাতের নাগালে এআই প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে চান আম্বানি। এর মাধ্যমে গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র ডেটা প্রসেসিং হবে আরও দ্রুত এবং সস্তা।
আদানির ডেটা সেন্টার সাম্রাজ্য পিছিয়ে নেই আদানি গ্রুপও। গৌতম আদানির লক্ষ্য এখন এআই-এর জ্বালানি অর্থাৎ ‘ডেটা’। বিশাল পরিমাণ তথ্য সঞ্চয় এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য দেশজুড়ে হাই-টেক ডেটা সেন্টার তৈরির কাজ শুরু করেছে আদানি গ্রুপ। বিশেষ করে গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবহার করে এই ডেটা সেন্টারগুলি চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বিশ্বের বড় টেক জায়ান্টদের নজর কেড়েছে। এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার গঠনে রিলায়েন্সের বিনিয়োগের সমান্তরালে আদানির এই ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের মেরুদণ্ড হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই শিল্পগোষ্ঠীর বিপুল বিনিয়োগ ভারতে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করবে। শুধু তাই নয়, এআই এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে ভারত আর বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না। আম্বানির এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং আদানির ডেটা স্টোরেজ ক্ষমতা ভারতকে বিশ্বের পরবর্তী ‘টেক হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। দুই ধনকুবেরের এই মেগা বিনিয়োগ আগামী কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে।