পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের একবার বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত। ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ এবং সিপিএমের এক সময়ের লড়াকু নেতা প্রতীক উর রহমানকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা তুঙ্গে ছিল। তিনি কি তবে লাল ঝান্ডা ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রতীক। আর সেখানে তিনি যা বললেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত।
তৃণমূলে যোগদান: কবে এবং কেন? সাক্ষাৎকারে যখন সরাসরি প্রশ্ন করা হয় যে তিনি কি তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন? প্রতীকের রহস্যময় উত্তর, “রাজনীতিতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে সঠিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। যদি দেখি যে বর্তমান দল বা নেতৃত্ব মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, তবে বিকল্প পথ তো ভাবতেই হবে।” সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তৃণমূলের কোনো হেভিওয়েট নেতার উপস্থিতিতে তিনি পতাকা হাতে তুলে নিতে পারেন। যদিও তারিখ নিয়ে তিনি এখনই স্পষ্ট কিছু বলতে নারাজ, তবে তাঁর শরীরী ভাষা এবং কথাবার্তা বলছে যে চিত্রনাট্য ইতিমধ্য়েই তৈরি।
মহম্মদ সেলিমকে ‘তুলোধনা’ প্রতীক উর রহমানের ক্ষোভের মূলে রয়েছে সিপিএমের বর্তমান রাজ্য নেতৃত্ব, বিশেষ করে মহম্মদ সেলিম। সেলিমের কর্মপদ্ধতি এবং দলের ভেতরে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে প্রতীক বলেন, “মহম্মদ সেলিম সাহেব দলকে যে পথে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে সাধারণ কর্মীরা দিকভ্রান্ত। তিনি কি আদৌ বিজেপি বা তৃণমূলের বিরোধিতা করছেন, নাকি নিজের আখের গোছাতে দলকে শেষ করছেন, সেটা এখন বড় প্রশ্ন। সেলিমের ইগো এবং ভুল কৌশলের খেসারত দিতে হচ্ছে যুব সমাজকে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, যোগ্য সম্মান না পেলে কোনো লড়াকু কর্মী বেশিক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকতে পারে না।
সিপিএমের রক্তক্ষরণ ও তৃণমূলের হাতছানি প্রতীকের মতো একজন মাঠের নেতা দল ছাড়লে তা বাম শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হতে চলেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে এবং যুবকদের মধ্যে প্রতীকের ভালো প্রভাব রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, “প্রতীক শিক্ষিত এবং লড়াকু ছেলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে শামিল হতে চাইলে তাঁর জন্য দরজা খোলা।” এখন দেখার, ২১ জুলাই বা তার আগে কোনো বড় মঞ্চে প্রতীক উর রহমানকে তৃণমূলের উত্তরীয় পরে দেখা যায় কি না।