বাংলাদেশের রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে এক অবিশ্বাস্য পটপরিবর্তন শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার গঠন করার প্রক্রিয়ায় নামতেই, গত কয়েকমাস ধরে কোণঠাসা হয়ে থাকা আওয়ামি লীগ শিবিরে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে মফস্বল— সর্বত্রই গত ৫ আগস্টের পর তালাবন্ধ হওয়া আওয়ামি লীগের পার্টি অফিসগুলো একে একে খুলতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি নতুন এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে— তবে কি খুব শীঘ্রই দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা?
নেতাকর্মীদের নয়া উদ্যম: তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিতেই আওয়ামি লীগের স্থানীয় স্তরের নেতাকর্মীরা আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি নির্বাচিত সরকার আসায় তাঁরা এখন আইনি সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার আশা করছেন। গত কয়েকদিনে বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ে কর্মীদের ভিড় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ প্রমাণ করছে যে, দলটিকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
হাসিনা ফিরছেন কবে? দলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত থেকে পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন। নেতাকর্মীদের ‘আশায় বুক বাঁধা’র অন্যতম কারণ হলো দলীয় হাইকম্যান্ডের একটি গোপন বার্তা, যেখানে বলা হয়েছে যে উপযুক্ত রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশ তৈরি হলেই তিনি বাংলাদেশে পা রাখবেন। তবে কবে নাগাদ সেই দিনটি আসবে, তা নির্ভর করছে নতুন সরকারের আইনি পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপর। বিএনপি জমানায় আওয়ামি লীগের এই হঠাৎ সক্রিয়তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।