বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু নেতাদের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বিএনপি’র শাসনামলে, বিশেষ করে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের সময়ে যে নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে, তিনি হলেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং তৎকালীন মন্ত্রিসভার একমাত্র হিন্দু মন্ত্রী হিসেবে তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
নিতাই রায় চৌধুরীর রাজনৈতিক পরিচয়: নিতাই রায় চৌধুরী বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং বর্তমানে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর আদি নিবাস মাগুরা জেলায়। পেশায় তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তিনি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তাকে তারেক রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ? ১. সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বিএনপির মতো একটি দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অবস্থান দলটির অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি বড় হাতিয়ার ছিল। ২. তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক: তারেক রহমান যখন হাওয়া ভবনের মাধ্যমে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দাপট দেখাচ্ছিলেন, তখন নিতাই রায় চৌধুরী ছিলেন তাঁর অন্যতম পরামর্শক। ৩. পারিবারিক ঐতিহ্য: তাঁর পরিবারও রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর কন্যা নিপুণ রায় চৌধুরীও বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির এক পরিচিত মুখ।
সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির পুনর্গঠন এবং তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আলোচনায় নিতাই রায় চৌধুরীর নাম ফের সামনে আসছে। দলের দুর্দিনে এবং আইনি লড়াইয়ে তাঁর ভূমিকা তৃণমূল কর্মীদের কাছে তাঁকে আজও জনপ্রিয় করে রেখেছে।