২০২৬ সালের নির্বাচনে বিশাল জয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধ্যায় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত বছর দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী আয়ের (Remittance) ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় জোয়ার দেখা যাচ্ছে, তা দেশটির অর্থনৈতিক ইতিহাসে বিরল।
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এর সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৭ দিনেই দেশে এসেছে প্রায় ২ বিলিয়ন (১৯৭ কোটি) মার্কিন ডলার। গত বছরের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় ২৫ শতাংশ। জানুয়ারি মাসেও ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। তারেক রহমান সরকারের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে টাকা পাঠানোর সরকারি তৎপরতাই এই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতি বছর ২০ লাখ কর্মসংস্থান এবং বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য বিনা সুদে ঋণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রবাসীদের উৎসাহিত করেছে।
রেমিট্যান্সের এই বিপুল প্রবাহের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে নিয়মিত ডলার কিনছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (Forex Reserve) এক ধাক্কায় ৩৪.৫৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি আমদানির ক্ষেত্রেও স্বস্তি ফিরছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বজায় থাকলে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার যে লক্ষ্য তারেক সরকার স্থির করেছে, তা সময়ের আগেই সফল হতে পারে।