“ভারতে ফিরে আসাটা সব সময়ই আনন্দের।” দীর্ঘ সময় পর ফের দেশের মাটিতে পা রেখে ঠিক এই ভাষাতেই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন গুগল ও অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ যোগ দিতে বুধবার রাজধানীতে পৌঁছেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ পিচাই লিখেছেন, “এআই সামিটের জন্য ফের ভারতে আসতে পেরে ভালো লাগছে। বরাবরের মতোই উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলাম।”
এদিন সামিটের ফাঁকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন সুন্দর পিচাই। বৈঠকে ভারতের দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা এআই ইকোসিস্টেম এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সম্ভব, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পিচাই জানান, গুগল ভারতকে কেবল একটি বাজার হিসেবে নয়, বরং এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কেন্দ্র (Global AI Hub) হিসেবে দেখছে। তিনি আরও বলেন, “ভারতের মেধাবী ছাত্র ও পেশাদারদের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।”
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পাঁচ দিনের মেগা সামিটে সুন্দর পিচাই ছাড়াও অংশ নিয়েছেন ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফটের মতো তাবড় টেক জায়ান্টের শীর্ষকর্তারা। পিচাই তাঁর আলোচনায় একটি নতুন প্রকল্পের ইঙ্গিতও দিয়েছেন— ‘ইন্ডিয়া-আমেরিকা কানেক্ট’ (India-America Connect), যা সাব-সি কেবলের মাধ্যমে ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এই সম্মেলনের সমাপ্তি পর্বে বিশেষ ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
ভারত সরকারের ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’ মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ এই সামিট আসলে প্রযুক্তির গণতান্ত্রিকীকরণের একটি বড় ধাপ। সুন্দর পিচাইয়ের উপস্থিতি এবং গুগলের নতুন বিনিয়োগের সঙ্কেত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের আইটি সেক্টরকে ৪০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন, তাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হবে তুরুপের তাস।