২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের একবার ‘মেরুকরণ’-এর তাস চাললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার এক জনসভা থেকে তিনি সরাসরি দাবি করলেন, এবারের নির্বাচনে উন্নয়নের বদলে ‘হিন্দুত্ব’ই হবে আসল নির্ণায়ক শক্তি। শুভেন্দুর সাফ কথা, “হিন্দুরা বাংলায় জেগে উঠেছে, এবার হিন্দুত্বের ওপর ভিত্তি করেই ভোট হবে।” একইসঙ্গে সিপিএম-কে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, হিন্দু ভোট ভাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুবিধা করে দিতেই বামেদের ময়দানে নামানো হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন সরাসরি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত। তাঁর কণ্ঠে শোনা যায় সেই পরিচিত স্লোগান— ‘হিন্দু খাতরে মে হ্যায়’। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন সাধারণ মানুষের সমর্থন তাঁর সঙ্গে নেই। তাই তিনি সিপিএম-কে তাঁর ‘বি-টিম’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। সিপিএম কেবল হিন্দু পাড়াগুলোতে গিয়ে ভোট কাটার চেষ্টা করছে যাতে তৃণমূলের সুবিধা হয়।”
বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সনাতনী আবেগকে হাতিয়ার করেই লড়াইয়ের ময়দানে নামবে। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ বাংলার হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেছে এবং ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন ঘটবে।
অন্যদিকে, শুভেন্দুর এই আক্রমণকে আমল দিতে নারাজ বাম ও ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, হার নিশ্চিত জেনে শুভেন্দু সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছেন। সিপিএমের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা রুটি-রুজি এবং মানুষের অধিকারের দাবিতে লড়ছে, হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী নয়। তবে ভোটের আগে শুভেন্দুর এই ‘হিন্দুত্ব’ কার্ড যে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।