১১ বছরের এক নাবালিকার স্তন স্পর্শ করা এবং তার সালোয়ারের দড়ি টেনে ছিঁড়ে কালভার্টের নিচে টেনে নিয়ে যাওয়া কি শুধুই সাধারণ নিগ্রহ? এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি বিতর্কিত রায় ঘিরে এমনই চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন উঠেছিল। তবে দেশের শীর্ষ আদালত, সুপ্রিম কোর্ট আজ সেই রায় খারিজ করে স্পষ্ট জানাল, যৌন হেনস্থার বিচার করতে গেলে শুধুমাত্র আইনি মারপ্যাঁচ নয়, প্রয়োজন মানবিক সহমর্মিতা ও সহানুভূতি।
মামলাটি ছিল পবন এবং আকাশ নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে, যারা ওই নাবালিকাকে কালভার্টের নিচে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। ট্রায়াল কোর্ট ঘটনাটিকে POCSO আইনের ধারা অনুযায়ী ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে বিচার করার নির্দেশ দিলেও, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ এলাহাবাদ হাইকোর্ট অপরাধের গুরুত্ব কমিয়ে লঘু ধারায় বিচারের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের যুক্তি ছিল, এটি ধর্ষণ নয়, বরং শ্লীলতাহানির স্তরের অপরাধ।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি এনভি আনজারিয়ার বেঞ্চ হাইকোর্টের সেই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগকারিণীর মানসিক অবস্থা এবং ট্রমা যদি আদালত বুঝতে না পারে, তবে প্রকৃত সুবিচার অসম্ভব। আদালত সাফ জানিয়েছে, এই ধরনের জঘন্য ঘটনাকে হালকা করে দেখার অবকাশ নেই। পকসো আইনের কঠিন ধারাগুলো বজায় রেখেই বিচার প্রক্রিয়া চলবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।