বঙ্গ রাজনীতিতে এখন তোলপাড়ের নাম ‘নিউটাউন বৈঠক’। একদিকে সিপিএমের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন, অন্যদিকে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের একের পর এক বিস্ফোরক দাবি— সব মিলিয়ে নাজেহাল আলিমুদ্দিন। ঘটনার সূত্রপাত নিউটাউনের এক হোটেলে মহম্মদ সেলিম ও হুমায়ুন কবীরের গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে। এই ইস্যুতে দলের প্রতি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজ্য কমিটি ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুব নেতা প্রতীক উর রহমান। তাঁর সাফ কথা, “মানুষ যখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখনই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।”
এদিকে বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছেন খোদ হুমায়ুন কবীর। টিভি৯ বাংলার বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, বৈঠক শুধু একবার নয়, আইটিসি থেকে ওয়েস্টিন— একাধিকবার সেলিমের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। সুজন চক্রবর্তীর মতো নেতারা তাঁকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বা ‘অযোগ্য’ বললেও, কেন তাঁদের রাজ্য সম্পাদক বারবার তাঁর সঙ্গে বসছেন, সেই প্রশ্ন তুলে বাম শিবিরকে কার্যত আয়না দেখিয়েছেন হুমায়ুন। এমনকি গত ৪ ডিসেম্বর ববি হাকিম তাঁকে সাসপেন্ড করার পর তিনিই যে সেলিমকে জোটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সে কথাও ফাঁস করেছেন এই বিধায়ক।
বিরোধীরা যখন একে অপরের ‘বি টিম’ হওয়ার তকমা দিচ্ছে, তখন হুমায়ুনের পালটা চ্যালেঞ্জ, “আমি তৃণমূল বা বিজেপি কারো বি টিম নই, আমি এ-টিমেই খেলি।” ভোটের লড়াইয়ে নিজের ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নিয়ে তিনি বিজেপি ও তৃণমূলকে টেক্কা দেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, প্রতীকূরের ইস্তফা আর হুমায়ুনের বয়ানে বঙ্গ বাম রাজনীতি এখন খাদের কিনারে।