২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে অসমের রাজনীতিতে যেন আক্ষরিক অর্থেই ভূমিকম্প হয়ে গেল। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (APCC) সভাপতি ভূপেন বোরাহ কি হাত শিবির ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন? মঙ্গলবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এমনই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ভূপেন বোরাহ বিজেপিতে যোগ দেওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
হিমন্তের সেই চাঞ্চল্যকর দাবি: মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে এক দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “ভূপেন বোরাহ খুব শীঘ্রই বিজেপিতে আসছেন। আমরা তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তিনি একসময় আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন, এবং তিনি বুঝতে পেরেছেন যে কংগ্রেসের নৌকায় আর ভবিষ্যৎ নেই।” হিমন্তের এই দাবির পর অসমের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, ভোটের আগে কংগ্রেসের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই কি এই রণকৌশল গেরুয়া শিবিরের?
ভূপেন বোরাহর প্রতিক্রিয়া: মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর যদিও ভূপেন বোরাহ বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমন্ত যখন কোনও নাম নিয়ে আগাম ঘোষণা করেন, তার নেপথ্যে সাধারণত শক্তিশালী কোনও চিত্রনাট্য থাকে। এর আগে সুস্মিতা দেব থেকে শুরু করে একাধিক কংগ্রেস নেতা একইভাবে দল ছেড়েছিলেন। ভূপেন বোরাহ যদি সত্যিই বিজেপিতে যোগ দেন, তবে অসমে কংগ্রেসের কাছে তা হবে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ভোটের আগে শক্তি প্রদর্শন: অসমে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন যে, বিরোধী দলের অধিকাংশ প্রভাবশালী নেতাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ভূপেন বোরাহর মতো রাজ্য সভাপতির বিজেপিতে যাওয়ার জল্পনা যদি সত্যি হয়, তবে অসমের কংগ্রেস পুরোপুরি নেতৃত্বহীন হয়ে পড়বে। এখন দেখার, এই হাই-ভোল্টেজ জল্পনার জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।