রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের বিয়ে না হওয়া বা অবিবাহিত থাকার জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের বেকারত্ব সমস্যার এক নতুন দিক তুলে ধরেন। শুভেন্দুর দাবি, এ রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবে যুবকদের পকেটে টাকা নেই, আর সেই কারণেই বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলেও তাঁরা সংসার পাততে পারছেন না।
শুভেন্দুর ঝাঁজালো আক্রমণ: বিমানের মন্ডলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী আজ দিশেহারা। পড়াশোনা শেষ করে তাঁরা চাকরির আশায় বসে আছেন, কিন্তু কাজ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শিল্প আনতে ব্যর্থ, নিয়োগে দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, রাজ্যের যুবকদের বয়স ৪০ পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তাঁরা বিয়ে করতে পারছেন না। পকেটে উপার্জনের সংস্থান না থাকলে কে কার কাছে মেয়ে দেবে?”
তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও বেকারত্ব: বিরোধী দলনেতা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, মেধা থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের তরুণ-তরুণীদের পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন সোনার বাংলার যুবকদের কেরল বা গুজরাটে গিয়ে কাজ করতে হবে? কেন নিজের রাজ্যে মাথা উঁচু করে বাঁচার মতো পরিবেশ নেই?” তাঁর মতে, এই ‘অবিবাহিত’ থাকার যন্ত্রণা আসলে গভীর এক সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন, যার মূলে রয়েছে কর্মসংস্থানের অভাব।
পাল্টা তৃণমূলের জবাব: শুভেন্দুর এই ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী ইস্যু না পেয়ে এখন কুরুচিকর মন্তব্য করছেন। ভারতের সামগ্রিক বেকারত্ব নিয়ে কেন্দ্রকে কেন তিনি প্রশ্ন করছেন না, সেই প্রশ্নও তুলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে ২০২৬-এর আগে শুভেন্দুর এই ‘বিয়ে ও বেকারত্ব’ ইস্যু যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
🔹 Hindi Version: