বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকল ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই অত্যন্ত কঠোর এবং সুদূরপ্রসারী এক সিদ্ধান্ত নিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত বিএনপি সাংসদদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে যখন সাজসাজ রব, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নেয় পুরো প্রক্রিয়া। বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা সাংসদ হিসেবে শপথ নিলেও, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকলেন।
সূত্রের খবর, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগে কক্সবাজার–১ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় সাংসদদের এই বিশেষ নির্দেশ দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এখনই সংবিধান সংস্কার কমিশনের অংশ হওয়া দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। মূলত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অর্থাৎ তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নিলেও সংবিধান সংস্কারে শামিল না হওয়ার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে আগে কখনও দেখা যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সম্ভবত বর্তমান সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখনই কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না অথবা নিজস্ব কোনও রূপরেখা নিয়ে এগোতে চাইছে। শপথের মঞ্চে দাঁড়িয়েও দলের এই অনড় অবস্থান বুঝিয়ে দিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এবার অত্যন্ত হিসেব কষে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—সাংসদ হয়েও কেন এই বিশেষ কমিশনের সদস্য হলেন না ফখরুল-সালাহউদ্দিনরা? এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কি কোনও বড় রাজনৈতিক কৌশলী লড়াইয়ের ইঙ্গিত রয়েছে?