বিশ্ব প্রযুক্তির বাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে এবার সবথেকে বড় বাজি ধরলেন গৌতম আদানি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পুঁজি করে আদানি গ্রুপ আগামী এক দশকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮.৩ লক্ষ কোটি টাকা) বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হবে অত্যাধুনিক ‘এআই ডেটা সেন্টার’ এবং গ্রিন এনার্জি হাব তৈরির কাজে।
কেন এই মেগা বিনিয়োগ? আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে এআই প্রযুক্তির গ্লোবাল হাব হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডেটা প্রসেসিং এবং এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বিশাল ক্ষমতার ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন। আদানি গ্রুপ এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে চাইছে। এই প্রকল্পের অধীনে গুজরাটের খাউড়া-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশালাকার ডেটা সেন্টার পার্ক গড়ে তোলা হবে, যা সম্পূর্ণভাবে নবীকরণযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) দ্বারা পরিচালিত হবে।
প্রযুক্তির লড়াইয়ে আদানির শক্তি: এই ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের একটি বড় অংশ খরচ হবে সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম এবং ক্লাউড কম্পিউটিং পরিকাঠামোয়। আদানি গ্রুপের দাবি, তাদের এই উদ্যোগ কেবল ব্যবসায়িক লাভ নয়, বরং ভারতের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতেও সাহায্য করবে। এই ডেটা সেন্টারগুলি মাইক্রোসফট, গুগল এবং অ্যামাজনের মতো বিশ্ববিখ্যাত টেক জায়ান্টদের সরাসরি টক্কর দেবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
ইতিমধ্যেই আদানি এনার্জি সলিউশন এবং আদানি এন্টারপ্রাইজ এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে। এই মেগা প্রজেক্টের ফলে লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আদানির এই ‘এআই ডিজিটাল টুইন’ প্রযুক্তি ভারতের শিল্পক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। ২০২৬ সালের মধ্যেই এই প্রকল্পের প্রথম ধাপের ফলাফল দৃশ্যমান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।