বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের পথচলা শুরু হলো এক বিশেষ কূটনৈতিক বার্তার মধ্য দিয়ে। ঢাকার বঙ্গভবনে আয়োজিত নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী। ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে এই শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর এই নৈকট্য কি আগামী দিনে নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
নেপালের উপস্থিতি ও কূটনৈতিক গুরুত্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের আমন্ত্রণে নেপালের বিদেশমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত কোনো দেশের সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম বিদেশি অতিথির উপস্থিতি সেই দেশের আগামীর বৈদেশিক নীতির দিশা নির্ধারণ করে। নেপাল ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে আগ্রহী। বিশেষ করে ট্রানজিট, বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং জলবিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনা চলছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রীর এই উপস্থিতি সেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মোড়? বাংলাদেশের এই নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি বা অন্য কোনো দেশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতির চেয়েও নেপালের মন্ত্রীর সক্রিয়তা নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এর মাধ্যমে কি বাংলাদেশ বার্তা দিতে চাইছে যে তারা ভারতের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রেখে সম্পর্ক মজবুত করতে চায়? নেপালের পক্ষ থেকেও এই সফরকে ‘বন্ধুত্বের হাত’ বাড়িয়ে দেওয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উল্লেখ্য, নেপাল থেকে ভারতের ওপর দিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে ইতিপূর্বেই একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন সরকারের আমলে সেই প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হতে পারে। শপথ অনুষ্ঠান শেষে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনিযুক্ত শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দুই দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা বিভিন্ন বাণিজ্যিক ইস্যু দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ঢাকার এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় কূটনীতির দাবার বোর্ডে এক নতুন চাল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।