রঞ্জি ট্রফির মহারণে ফের জ্বলে উঠলেন বাংলার দুই পেস অস্ত্র মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমার। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় দিনের শেষে সুবিধাজনক জায়গায় অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। বাংলার প্রথম ইনিংসের ৩২৮ রানের জবাবে দিন শেষে জম্মু-কাশ্মীরের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৯৮ রান। সফরকারী দল এখনও বাংলার চেয়ে ১৩০ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
সুদীপের দাপট ও বাংলার ৩২৮ এদিন ৫ উইকেটে ২৪৯ রান নিয়ে খেলা শুরু করেছিল বাংলা। কোয়ার্টার ফাইনালের নায়ক সুদীপ কুমার ঘরামি এদিন আরও ১০ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ১৪৬ রানে আউট হন। তাঁর লড়াকু ইনিংসই বাংলাকে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেয়। শেষ দিকে সুমন্ত গুপ্তের ৩৯ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে বাংলা ৩২৮ রান তুলতে সক্ষম হয়। জম্মু-কাশ্মীরের পক্ষে আকিব নবি ৮৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে আরও একবার নজর কাড়েন।
শামির স্পেল ও কাশ্মীরের বিপর্যয় ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে জম্মু-কাশ্মীর। মাত্র ১৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে কার্যত ধুঁকতে শুরু করে তারা। এর মধ্যে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ শামি এবং অন্য উইকেটটি নেন মুকেশ কুমার। ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন কাশ্মীর কোণঠাসা, তখন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিজ্ঞ পরশ ডোগরা এবং আব্দুল সামাদ। চতুর্থ উইকেটে তাঁরা ১৪৩ রান যোগ করে বাংলাকে কিছুটা চাপে ফেলেছিলেন।
প্রতিরোধ ভেঙে ফের কামব্যাক দিনের শেষ বেলায় ফের আঘাত হানেন শামি-মুকেশ জুটি। ৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলা আব্দুল সামাদকে প্যাভিলিয়নে ফেরান শামি। অন্যদিকে, অর্ধশতরান করা অধিনায়ক পরশ ডোগরাকে (৫৮) আউট করেন মুকেশ কুমার। দিনের শেষে ক্রিজে আছেন আবিদ মুস্তাক (২৬) ও কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান (১০)। বাংলার পক্ষে শামি একাই নিয়েছেন ৩ উইকেট এবং মুকেশ পেয়েছেন ২টি।
তৃতীয় দিন সকালে শামির নেতৃত্বে বাংলার পেস অ্যাটাক যদি দ্রুত বাকি ৫টি উইকেট তুলে নিতে পারে, তবে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে ফাইনালের রাস্তা পরিষ্কার করে ফেলবে বাংলা।