শিল্পাঞ্চল আসানসোলে এখন উৎসবের মেজাজ, তবে তার আড়ালে বইছে রাজনীতির চোরা স্রোত। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই শিবরাত্রির পুণ্য লগনকে হাতিয়ার করে জনসংযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ল যুযুধান দুই শিবির। একদিকে যখন মন্দির চত্বরে ভক্তি আর আরাধনার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময়ই রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুব সাথী’-র হাত ধরে যুবসমাজের মন জয়ের লড়াই শুরু হলো।
ভক্তি বনাম উন্নয়ন: দুই শিবিরের কৌশল আসানসোল বরাবরের মতোই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। শিবরাত্রির এই মরশুমে দেখা গেল জনসংযোগের দুই বিপরীত ছবি। শাসক শিবিরের একাংশ যেখানে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুব সাথী’-র সুবিধা পৌঁছে দিতে ব্যস্ত, সেখানে বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে শাসকদলেরই অন্য গোষ্ঠী শিবরাত্রির মেলা ও মন্দিরের ভিড়কে কাজে লাগিয়ে মানুষের আশীর্বাদ পেতে চাইছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই ‘পাবলিক আউটরিচ’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যুব সাথীর হাত ধরে নতুন পথচলা রাজ্যে সদ্য শুরু হওয়া ‘যুব সাথী’ প্রকল্পটি নিয়ে আসানসোলের যুবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। শিবরাত্রির ভিড়ের মাঝেই বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প করে এই প্রকল্পের প্রচার চালানো হচ্ছে। বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করতে এই প্রকল্প কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে চলছে জোরদার আলোচনা। শাসকদলের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা সরাসরি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছে যেতে সক্ষম হচ্ছে।
শিবরাত্রির মেলায় রাজনৈতিক ছোঁয়া অন্যদিকে, আসানসোলের ছোট-বড় প্রতিটি শিবমন্দির সংলগ্ন মেলায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রসাদ বিতরণ থেকে শুরু করে মেলা কমিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান—সবকিছুতেই প্রচ্ছন্ন রাজনীতির ছোঁয়া। কোনো পক্ষই জনসংযোগের এই মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয়। একদিকে চলছে ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি, আর অন্যদিকে চলছে উন্নয়নের খতিয়ান ও রাজনৈতিক স্লোগান।
আসানসোলের ভোটাররা অবশ্য সবটাই দেখছেন। শিবরাত্রির মাহাত্ম্য আর রাজনীতির এই মিশেল শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কার দিকে পাল্লা ভারি করবে, সেটাই এখন দেখার।