“বিয়ের আগে লিভ-ইন? আমরাই বড্ড সেকেলে!” এজলাসে আইনজীবীর সওয়াল শুনে এ কী বললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি!

বিয়ে এবং শারীরিক সম্পর্কের চিরাচরিত ধারণা নিয়ে বর্তমানে সমাজ কতটা বদলে গিয়েছে, তার আঁচ এবার পাওয়া গেল খোদ সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে। একটি মামলার শুনানি চলাকালীন বর্তমান প্রজন্মের জীবনধারা এবং সম্পর্কের সমীকরণ শুনে অবাক হলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। আধুনিক প্রজন্মের ‘লিভ-ইন’ এবং বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কের সাহসিকতা দেখে স্বয়ং বিচারপতিরা বলে উঠলেন, “আমরাই মনে হয় বড্ড সেকেলে হয়ে পড়েছি!”

ঘটনাটি ঘটে একটি ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন। সেখানে অভিযুক্তের আইনজীবী সওয়াল করেন যে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে, কিন্তু বাস্তবে তা পারস্পরিক সম্মতিক্রমেই ঘটে থাকে। আধুনিক প্রজন্মের কাছে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক এখন আর কোনো ‘ট্যাবু’ নয়। আইনজীবীর এই যুক্তি শুনে বিচারপতিরা কিছুটা থমকে যান। বর্তমান সময়ের সম্পর্কের খোলামেলা ধরণ এবং সামাজিক বিবর্তনের কথা শুনে বিচারপতিরা নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তার তুলনা টানেন। হাসিমুখে রসিকতার সুরে তাঁরা মন্তব্য করেন, আধুনিক তরুণ-তরুণীরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ স্বচ্ছতা এবং স্বাধীনতা বজায় রাখে, তার তুলনায় তাঁরা অনেক রক্ষণশীল বা ‘পুরনো জমানার’।

শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ সামাজিক স্তরে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও বিচারপতিরা বিষয়টিকে হাল্কা মেজাজে ব্যক্ত করেছেন, তবে এর ভেতরে এক গভীর সত্য লুকিয়ে রয়েছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও যে পাল্টাচ্ছে, এই মন্তব্য তারই ইঙ্গিত দেয়। বিচারপতির এই ‘সেকেলে’ হওয়ার স্বীকারোক্তি মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, বিচারব্যবস্থার শীর্ষে বসেও বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে সমাজের পরিবর্তনকে মেনে নেওয়ার এই মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy