মস্কোর স্টেট ডুমা বা রাশিয়ার পার্লামেন্টে হঠাৎই প্রতিধ্বনিত হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম। যুদ্ধের আবহে যখন গোটা পশ্চিমী দুনিয়া রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে তাকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময়েই রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ভারতের সাহসিকতা ও নিরপেক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করলেন। লাভরভের এই বয়ানে কার্যত অস্বস্তিতে পড়েছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
রুশ বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, পশ্চিমী দেশগুলোর প্রবল চাপ এবং ক্রমাগত হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ভারত নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে। তিনি বলেন, “ভারত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং তারা জানে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনো বহিঃশক্তির রক্তচক্ষুকে পরোয়া করেননি।” রাশিয়ার আইনসভার উচ্চকক্ষে লাভরভের এই মন্তব্য বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতির অলিন্দে ঝড় তুলেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই আমেরিকা ভারতকে রাশিয়ার থেকে তেল না কেনার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। এমনকি ভারত যাতে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধ করে, তার জন্য একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা জারির প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার। রাশিয়ার এই খোলাখুলি স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে দেয় যে, বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান কতটা শক্তিশালী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সংসদে মোদীর নাম উচ্চারিত হওয়া কেবল একটি কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং এটি ভারতের ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বড় জয়। একদিকে কোয়াড সদস্য হিসেবে আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পুরনো বন্ধুত্ব—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে ভারত বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।