বাংলাদেশে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-র বিশাল জয়ের পর এবার নয়া সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পালা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আয়োজিত হতে চলা এই মেগা অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে চলেছেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ? দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি-র এই প্রত্যাবর্তনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ছিল। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের এই সফর স্পষ্ট করে দিল যে, নয়াদিল্লি তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ (Neighbourhood First) নীতি বজায় রেখে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক: শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি একান্ত বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক আদানপ্রদান নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়শঙ্করের এই উপস্থিতির মাধ্যমে ভারত এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত যে কোনো সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে দিল্লি দায়বদ্ধ।
উপস্থিত থাকবেন কারা? তারেক রহমানের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কেবল ভারত নয়, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর এই সফরটিই সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।