মহাশিবরাত্রি ২০২৬: সংকটের মেঘ কাটিয়ে সৌভাগ্যের উদয়! মহাদেবের কৃপায় কীভাবে বদলাবে আপনার জীবন?
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বিশেষ তিথিকেই আমরা ‘মহাশিবরাত্রি’ হিসেবে পালন করি, যা আধ্যাত্মিক জগতের এক মহাশক্তিধর রাত। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনেই দেবাদিদেব মহাদেব ও দেবী পার্বতী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ২০২৬ সালের এই পবিত্র লগ্নে গ্রহ-নক্ষত্রের বিশেষ অবস্থানে তৈরি হচ্ছে এক বিরল সংযোগ। যারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে বাধা বা পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই শিবরাত্রি হতে পারে নতুন জীবনের শুরু।
সৌভাগ্য ফেরানোর অব্যর্থ নিয়ম: শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এই দিন ভোরে ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে শুদ্ধবস্ত্রে শিবলিঙ্গে অভিষেক করা অত্যন্ত জরুরি। জল, কাঁচা দুধ, মধু এবং গঙ্গাজল দিয়ে শিবের অভিষেক করলে জীবনের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। মহাদেবের সবথেকে প্রিয় হলো বিল্বপত্র বা বেলপাতা। তিন পাতা বিশিষ্ট অখণ্ড বেলপাতা ভক্তিভরে অর্পণ করলে আশাতীত ফল পাওয়া যায়। সাথে ধুতুরা এবং আকন্দ ফুলের মালা মহাদেবকে সন্তুষ্ট করার অন্যতম পথ।
অবিবাহিতদের জন্য বিশেষ বার্তা: যাঁদের বিবাহে ক্রমাগত বাধা আসছে বা যারা মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, তাঁদের জন্য শিবরাত্রির রাত এক পরম প্রাপ্তির সময়। এদিন শিব ও পার্বতীর যুগল মূর্তির সামনে ঘৃতপ্রদীপ জ্বেলে পুজো করলে দাম্পত্য বাধা কেটে যায়।
কী করবেন না? পবিত্র এই দিনে ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করুন। কারও মনে কষ্ট দেবেন না এবং কোনোভাবেই নেশাজাতীয় দ্রব্য বা আমিষ গ্রহণ করবেন না। মনে রাখবেন, কেবল উপবাস নয়, শুদ্ধ মন ও মন্ত্র জপই হলো শিবকে পাওয়ার আসল চাবিকাঠি। ১০৮ বার মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ আপনার শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় কাটিয়ে দিতে সক্ষম।