আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিতর্কিত ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ ভিডিও এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্ক্যানারে। সম্প্রতি আসাম বিজেপির অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে শেয়ার করা একটি ভিডিও ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রতীকিভাবে বন্দুক তাক করে গুলি করছেন এমন দুই ব্যক্তির দিকে, যাদের পোশাক ও অবয়ব মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচায়ক। ভিডিওটিতে ‘বিদেশিমুক্ত আসাম’, ‘কোনো ক্ষমা নেই’ এবং ‘কেন পাকিস্তানে গেলে না’—এর মতো অত্যন্ত উস্কানিমূলক বার্তা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই এবার হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট।
আগামী সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি হতে চলেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এই শুনানি হবে। সিপিআই(এম) নেত্রী অ্যানি রাজা এবং একদল বিশিষ্ট সমাজকর্মীর পক্ষ থেকে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, একজন সাংবিধানিক পদে আসীন মুখ্যমন্ত্রী হয়েও হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (Hate Speech) ছড়াচ্ছেন এবং একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হিংসায় উস্কানি দিচ্ছেন। মামলাকারীদের দাবি, এই ভিডিওটি স্রেফ একটি বিজ্ঞাপন নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।
যদিও বিতর্কের মুখে ভিডিওটি ডিলিট করে দিয়েছে আসাম বিজেপি এবং দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এটি এক ‘অনভিজ্ঞ’ কর্মীর কাজ ছিল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও দাবি করেছেন যে, তিনি এই ভিডিওর বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তবে বিরোধীরা এই সাফাই মানতে নারাজ। হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ—সকলেই এই ভিডিওটিকে ‘গণহত্যার ডাক’ বলে অভিহিত করেছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসাম সরকারের কাছে কোনো রিপোর্ট তলব করে কি না বা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।