শোকের পাহাড় মাথায় নিয়েও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কেরলের এক দম্পতি। নিজের মাত্র ১০ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে হারিয়েও যে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানসিক দৃঢ়তা তাঁরা দেখিয়েছেন, তা আজ গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ছোট্ট শিশুর অকাল মৃত্যুতে শোকাতুর পরিবারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের সন্তানের অঙ্গদানের, যাতে অন্য কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি না হয়। এই মহৎ সিদ্ধান্তের ফলে মৃত্যু পথযাত্রী আরও তিনটি শিশু নতুন জীবনের দিশা খুঁজে পেল।
জানা গেছে, কেরলের এই দম্পতির ১০ মাস বয়সী শিশুকন্যাটি মস্তিষ্কের একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করা হয়। নিজের কলিজার টুকরোকে হারানোর যন্ত্রণা যখন অসহ্য, ঠিক তখনই এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন ওই দম্পতি। তাঁরা ঠিক করেন, তাঁদের সন্তান চলে গেলেও তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সে বেঁচে থাকবে অন্য কারোর মধ্যে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, শিশুটির লিভার এবং দুটি কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে অন্য তিন অসুস্থ শিশুর শরীরে। কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই দম্পতির সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসার জোয়ার বইছে। যেখানে অঙ্গদান নিয়ে আজও সমাজে নানা জড়তা রয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এই দম্পতি প্রমাণ করে দিলেন যে মানবতা এবং পরোপকার সব শোকের ঊর্ধ্বে। দেশের প্রতিটি কোণ থেকে মানুষ আজ এই ‘বীর’ বাবা-মাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, যারা নিজেদের অন্ধকার সময়েও অন্যের জীবনে আলো নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।