বিশ্বজুড়ে অস্ত্রের বাজারে এখন দাপট দেখাচ্ছে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’। এতদিন ভারত অন্য দেশ থেকে অস্ত্র কিনত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার ‘পিনাকা’ (Pinaka) এখন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
আর্মেনিয়া থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী— একের পর এক দেশ এখন ভারতের এই ‘শিবের ধনুক’ নিজের অস্ত্রাগারে রাখতে মরিয়া। কিন্তু কেন হঠাৎ পিনাকার এত চাহিদা? কেনই বা ফ্রান্স বা রাশিয়ার মিসাইল ছেড়ে ভারতের দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব?
আর্মেনিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের জয়ধ্বনি
সম্প্রতি ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহানের উপস্থিতিতে আর্মেনিয়ার সেনার হাতে পৌঁছেছে ভারতের তৈরি পিনাকা। সে দেশের সেনাপ্রধান সরাসরি জানিয়েছেন, ফ্রান্সের তৈরি একটি মিসাইলের দাম যেখানে ৬০-৮০ কোটি টাকা, সেখানে ভারতের পিনাকা তার অর্ধেক দামেই পাওয়া যাচ্ছে। শুধু দাম নয়, এর বিধ্বংসী ক্ষমতা দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
কেন পিনাকা বিশ্বের সেরা? (৫টি বড় কারণ)
১. রকেটবৃষ্টির ক্ষমতা: একটি মেশিনগান থেকে যেমন গুলি বের হয়, পিনাকা ঠিক তেমনই রকেট বর্ষণ করে। মাত্র ৪৫ সেকেন্ডে পরপর ১২টি রকেট ছুড়ে শত্রুর বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দিতে পারে এটি। ২. বর্ধিত পাল্লা: আগে এর রেঞ্জ ছিল ৪০ কিমি, বর্তমানে এটি উন্নত হয়ে ৭৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। ৩. সহজ বহনযোগ্যতা: এটি একটি ট্রাকের ওপর বসানো থাকে, ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে খুব দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়। ৪. দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা: এই মিসাইল সিস্টেমের আয়ু এখন ১০ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করা হয়েছে। ৫. সাশ্রয়ী মূল্য: উন্নত টেকনোলজি থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় পিনাকার দাম অনেক কম।
ইউএই-র নজর পিনাকায়: কূটনৈতিক টানাপোড়েন?
সূত্রের খবর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) ভারত থেকে ২২০টি পিনাকা মিসাইল ও ব্যাটারি কিনতে আগ্রহী। তবে ভারত এই বিষয়ে কিছুটা সতর্ক। কারণ, সৌদি আরব ও ইউএই-র মধ্যে বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন। পিনাকা বিক্রি করলে ভারতের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কূটনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়বে, তা খতিয়ে দেখছে সাউথ ব্লক।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানি বাঙ্কার ধ্বংস করতে প্রথমবার পিনাকার ম্যাজিক দেখেছিল বিশ্ব। বর্তমানে ডিআরডিও (DRDO)-র পাশাপাশি ভারতের বেসরকারি সংস্থাগুলোও এই মিসাইল তৈরি করছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, আগামী দু’বছরের মধ্যে অন্তত আটটি দেশে পিনাকা সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে রকেট লঞ্চারের কার্যকারিতা দেখার পর থেকেই ভারতের এই অস্ত্রের চাহিদা আকাশছোঁয়া।