দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের মসনদে ফিরছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জোট। শনিবার বিকেলে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর আগামীর রূপরেখা ও বিদেশ নীতি স্পষ্ট করেছেন।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’: বিদেশ নীতির মূল মন্ত্র
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বিদেশি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান সাফ জানিয়ে দেন:
“আমাদের পররাষ্ট্র নীতি হবে বিশ্বজনীন। তবে সবকিছুর আগে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেই ভারতের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ও আলোচনা নির্ধারিত হবে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি কোনো নির্দিষ্ট দেশ-কেন্দ্রিক (Country-centric) নীতিতে বিশ্বাসী নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থ বজায় রেখেই ভারত, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।
দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের নয়া মোড়
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছিল, তা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে দু’পক্ষই।
-
মোদী-তারেক ফোনালাপ: ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই গতকাল শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোন করে অভিনন্দন জানান তারেক রহমানকে।
-
শপথের আমন্ত্রণ: গুঞ্জন রয়েছে, তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে ঢাকা।
-
হাসিনা ইস্যু: তবে শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে ফেরত চাওয়া নিয়ে বিএনপি অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আগামী চ্যালেঞ্জ ও প্রতিশ্রুতি
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন: ১. ভঙ্গুর অর্থনীতি: গত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে তোলা। ২. আইনশৃঙ্খলা: দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। ৩. জাতীয় ঐক্য: প্রতিহিংসার রাজনীতি ভুলে সকলকে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিজয়োৎসব নিয়ে সতর্কবার্তা
বিপুল জয়ের পর নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।” কোনোভাবেই যেন জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।