সোনা-রূপার বিনিয়োগে বড় বদল! ‘প্রাইস ব্যান্ড’ নিয়ে সেবি-র নতুন নিয়মে কি লাভবান হবেন আপনি?

বাজারে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার হাত থেকে বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ (ETF) সংক্রান্ত নিয়মে বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI)। গতকাল শুক্রবার সেবি একটি প্রস্তাবনা পেশ করেছে, যেখানে সোনা ও রূপার ইটিএফ-এর বেস প্রাইস (Base Price) এবং প্রাইস ব্যান্ড (Price Band) নির্ধারণের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

কী বদলাচ্ছে? (মুখ্য পরিবর্তনসমূহ)

বর্তমানে ইটিএফ-এর বেস প্রাইস নির্ধারণ করা হয় দু’দিন আগের (T-2 Day) ক্লোজিং নেভি (NAV)-র ওপর ভিত্তি করে। সেবি-র দাবি, এর ফলে বাজারের সাম্প্রতিক ওঠা-নামার সঠিক প্রতিফলন দামের ওপর পড়ে না। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী:

  • T-1 NAV-এর ব্যবহার: এখন থেকে দু’দিন আগের বদলে আগের দিনের (T-1 Day) ক্লোজিং প্রাইস বা নেভি-কে বেস প্রাইস হিসেবে ধরার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  • ৬% প্রাথমিক সার্কিট লিমিট: গোল্ড এবং সিলভার ইটিএফ-এর জন্য শুরুতে +/-৬% প্রাইস ব্যান্ড থাকবে। যদি বাজারের অস্থিরতা বাড়ে, তবে এটি ধাপে ধাপে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২০% পর্যন্ত করা হতে পারে।

  • কুলিং-অফ পিরিয়ড: কোনো নির্দিষ্ট সীমার বাইরে দাম চলে গেলে ১৫ মিনিটের জন্য ট্রেডিং বন্ধ বা ‘কুলিং-অফ পিরিয়ড’ রাখা হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা অযথা প্যানিক না করেন।

কেন এই উদ্যোগ?

সেবি লক্ষ্য করেছে যে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে যখন সোনা ও রূপার দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, তখন বর্তমান নিয়মগুলি সঠিক দাম নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছিল। এছাড়া ডিভিডেন্ড বা বোনাসের মতো কর্পোরেট অ্যাকশনগুলো এখন ম্যানুয়ালি আপডেট করতে হয়, যাতে ভুলের সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মে এই প্রক্রিয়া অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং স্বয়ংক্রিয় হবে।

বিনিয়োগকারীদের সুবিধা কী?

১. সঠিক দামে কেনা-বেচা: আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস কার্যকর হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বাজারের লেটেস্ট দামের অনেক কাছাকাছি লেনদেন করতে পারবেন। ২. সুরক্ষা: সার্কিট লিমিট বা প্রাইস ব্যান্ডের কড়াকড়ির ফলে হঠাৎ বড় কোনো ধসের হাত থেকে ছোট বিনিয়োগকারীরা রক্ষা পাবেন। ৩. স্বচ্ছতা: আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy