বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই প্রতিবেশী দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের আগুন উস্কে দিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে ভারতে আশ্রয়ে থাকা হাসিনা এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুললেন। তাঁর সাফ দাবি, এই নির্বাচন কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি ‘পরিকল্পিত প্রতারণা’।
হাসিনার অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি:
শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন:
-
ভৌতিক গতিতে ভোটদান: হাসিনা দাবি করেছেন, অনেক কেন্দ্রে প্রতি ৫ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছে বলে দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবে অসম্ভব। তিনি একে ‘পরিকল্পিত জালিয়াতি’ বলে উল্লেখ করেন।
-
ভোটের আগের দিন হিংসা: অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১১ ফেব্রুয়ারি ভোটের আগের রাতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা তাণ্ডব চালিয়েছে।
-
ব্যালট ছিনতাই ও আগাম বাক্স ভর্তি: হাসিনার দাবি অনুযায়ী, বহু ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বক্স আগে থেকেই ভর্তি করে রাখা হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
-
বিএনপি-জামায়াত আঁতাত: পুরো প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের মধ্যে গোপন আঁতাত ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: ঢাকার নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসিনার এই কড়া বয়ান আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ‘৫ সেকেন্ডে এক ভোট’-এর তত্ত্বটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসিনার বার্তা: দিল্লি থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি তাঁর অনুগামীদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন যে, এই ‘প্রতারণার জয়’ দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং দেশের মানুষ শীঘ্রই এই অনিয়মের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবে।