চব্বিশের লোকসভা ভোটের দামামা বাজতেই কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ। রাজ্য সরকার যখন বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলছে, ঠিক তখনই পাল্টা তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। অত্যন্ত কড়া সুরে অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন— “কে বলেছে বাংলা কিছু পায়নি?” শুধু প্রশ্ন তোলা নয়, শনিবার রীতিমতো পয়েন্ট করে করে মোদী সরকারের দেওয়া প্রাপ্তির এক বিরাট অঙ্ক কষে দিলেন তিনি।
নির্মলা সীতারমণের দেওয়া প্রাপ্তির খতিয়ান: অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার তহবিলে কত টাকা পাঠানো হয়েছে। তাঁর প্রধান পয়েন্টগুলি হলো:
-
সরাসরি আর্থিক বরাদ্দ: ইউপিএ সরকারের আমলের তুলনায় এনডিএ আমলে বাংলায় অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
-
মূলধনী উন্নয়ন: জাতীয় সড়ক নির্মাণ এবং রেল পরিকাঠামোয় বাংলার জন্য রেকর্ড পরিমাণ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
-
চর্মশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ: বাংলার চর্মশিল্প (Leather Industry) এবং এমএসএমই (MSME) সেক্টরের বিকাশে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ঋণ ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি বিশেষ উল্লেখ করেন।
-
হিসাব নিয়ে প্রশ্ন: অর্থমন্ত্রীর পাল্টা দাবি, “টাকা তো পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু সেই টাকার ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (UC) কই?” তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সঠিক সময়ে খরচের হিসেব না দেওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে বাংলার মানুষের মন জয় করতে বিজেপি যে ‘উন্নয়ন ও হিসেব’ কার্ড খেলছে, নির্মলার এই আক্রমণ তারই অঙ্গ। রাজ্য সরকার যখন ১০০ দিনের কাজ এবং আবাসের টাকা নিয়ে সোচ্চার, তখন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর এই পাল্টা পরিসংখ্যান নবান্নকে যথেষ্ট চাপে ফেলবে।
উপসংহার: বঞ্চনা বনাম উন্নয়নের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে? নির্মলা সীতারমণের দেওয়া এই বিশাল অঙ্ক কি বাংলার ভোটের ময়দানে ঘাসফুল শিবিরের পাল্লা ভারী করবে নাকি পদ্মশিবিরের সুবিধা দেবে? সে উত্তর মিলবে ইভিএমে।