“মোদীর রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস করতে চাই না!” ট্রাম্পের ভিডিও ঘিরে বিশ্বজুড়ে হইচই, মুখ খুলল বিদেশমন্ত্রক!

ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রসায়ন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পুরনো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সেখানে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে, তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস করতে চান না’। এই মন্তব্য ঘিরেই যখন আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনার পাহাড় জমছে, তখন নীরবতা ভেঙে মুখ খুলল ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA)।

কী আছে সেই ভাইরাল ভিডিওতে? ভাইরাল হওয়া ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক হার (Taxes) নিয়ে কথা বলছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত যখন আমেরিকার ওপর চড়া শুল্ক বসায়, তখন তিনি পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু মোদীর সাথে তাঁর গভীর বন্ধুত্বের খাতিরেই তিনি এমন কিছু করতে চাননি যা মোদীর জনপ্রিয়তায় আঘাত হানে। তাঁর ভাষায়— “আমি ওঁর (মোদী) পলিটিক্যাল লাইফ ধ্বংস করতে চাইনি।”

বিদেশমন্ত্রকের (MEA) কড়া ও কৌশলী বার্তা: বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতেই ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি জানান:

  • ভিডিওটি কোনো নির্দিষ্ট প্রসঙ্গের খণ্ডিত অংশ মাত্র, একে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

  • ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক কোনো একক ব্যক্তির মন্তব্যের ওপর নির্ভরশীল নয়, এটি পারস্পরিক স্বার্থ এবং বিশ্বাসের ওপর টিকে আছে।

  • ভারত বরাবরই স্বাধীন বাণিজ্য নীতিতে বিশ্বাসী এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: ট্রাম্পের এই ভিডিওটি সামনে আসতেই বিরোধীরা কেন্দ্র সরকারকে বিঁধতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, মোদী-ট্রাম্প বন্ধুত্বের আড়ালে ভারত কি তবে আমেরিকার চাপের মুখে পড়ছে? অন্যদিকে, বিজেপি সমর্থকদের দাবি, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসলে মোদীর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়।

ভবিষ্যৎ সমীকরণ: আসন্ন ২০২৬-এর কূটনৈতিক ক্যালেন্ডারে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, বিশেষ করে বাণিজ্যিক শুল্ক ও প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের এই মানসিকতা কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy