হুগলির ত্রিবেণীতে গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর সঙ্গমস্থলে আয়োজিত কুম্ভমেলার শেষ দিনে এক রহস্যময় ও কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস। বৃহস্পতিবার মেলার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বাংলার মানুষের উদ্দেশে এক বিশেষ আহ্বান জানান। রাজ্যপালের মতে, বাংলার সামনে এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ এবং তার মোকাবিলায় জনতাকে মানসিকভাবে তৈরি থাকতে হবে।
রাজ্যপালের ‘শত্রু ও হাতিয়ার’ তত্ত্ব: ত্রিবেণীর পুণ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে এদিন রাজ্যপাল কোনো নির্দিষ্ট নাম না নিলেও তাঁর শব্দচয়ন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন:
“সামনে শত্রু এবং হাতে রয়েছে হাতিয়ার। এই অবস্থায় বাংলার জনতাকে নিজের কর্মের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যপালের এই মন্তব্যের নেপথ্যে একাধিক গভীর অর্থ থাকতে পারে। কেউ মনে করছেন এটি আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপটে অশুভ শক্তির বিনাশের ডাক, আবার কেউ একে বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এক প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন।
কুম্ভমেলায় রাজ্যপাল ও ঐতিহ্যের পুনর্জন্ম: প্রায় ৭০০ বছর পর ত্রিবেণীতে কুম্ভমেলার যে ঐতিহ্য ফিরে এসেছে, তার প্রশংসা করেন রাজ্যপাল। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলায় কয়েক হাজার সাধু-সন্ন্যাসী ও পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছিল। বৃহস্পতিবার মেলার শেষ দিনে রাজ্যপাল সেখানে পৌঁছে রুদ্রাভিষেক যজ্ঞে আহুতি দেন এবং সাধু-সন্তদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।
বঞ্চনা ও প্রশাসনিক প্রশ্ন: কুম্ভমেলার আধ্যাত্মিক পরিবেশের পাশাপাশি রাজ্যপালের গলায় রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা ক্ষোভও ঝরে পড়ে। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে তাঁর মন্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী ছিল।
মেলার শেষে গঙ্গার পবিত্র জল মাথায় ঠেকিয়ে রাজ্যপাল যখন বিদায় নিচ্ছেন, তখন তাঁর ওই ‘শত্রু ও হাতিয়ার’ মন্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণের জল্পনা উসকে দিল।