ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ ৭৯ বছর পর সাউথ ব্লকের পুরনো ভবন ছেড়ে সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে নির্মিত অত্যাধুনিক কার্যালয় ‘সেবাতীর্থ’-এ স্থানান্তরিত হলো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO)। শুক্রবার নতুন এই কার্যালয়ে প্রবেশ করেই কাজে নেমে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চেয়ারে বসেই প্রথম দিনে তিনি নারী শক্তি, অন্নদাতা কৃষক এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই করেছেন।
প্রথম দিনের ৪টি বড় সিদ্ধান্ত:
১. পিএম রাহাত (PM RAHAT) প্রকল্প: দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য মোদি সরকার চালু করল এক বৈপ্লবিক প্রকল্প। এর অধীনে পথ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা পাবেন, যাতে টাকার অভাবে কারো প্রাণ না যায়।
২. লখপতি দিদি প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি: নারী স্বনির্ভরতার সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে ‘লখপতি দিদি’ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬ কোটি করার ফাইলে সই করলেন প্রধানমন্ত্রী। মার্চ ২০২৯-এর মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণ করা হবে।
৩. কৃষি পরিকাঠামো তহবিলে জোয়ার: দেশের কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করতে কৃষি পরিকাঠামো তহবিলের (AIF) বরাদ্দ ১ লক্ষ কোটি থেকে বাড়িয়ে একধাক্কায় ২ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে।
৪. স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ফান্ড ২.০: দেশের যুব সমাজের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে ১০,০০০ কোটি টাকার ‘Startup India Fund of Funds 2.0’ অনুমোদন করেছেন তিনি। এটি মূলত গভীর প্রযুক্তি (Deep Tech) এবং আধুনিক উৎপাদন খাতে ব্যয় হবে।
কেন এই বদল? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, ‘সেবাতীর্থ’ কেবল একটি ভবন নয়, এটি ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ বা ভারত প্রথম—এই আদর্শের প্রতীক। পুরনো সাউথ ব্লকের পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করে ডিজিটাল ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই কার্যালয় থেকে কাজ পরিচালনা করা আরও সহজ হবে।
এক নজরে নতুন পিএমও ‘সেবাতীর্থ’:
-
অবস্থান: সেন্ট্রাল ভিস্তা, দিল্লি।
-
বিভাগ: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়াও এখানে থাকবে ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
-
বৈশিষ্ট্য: এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং ভূমিকম্প-প্রতিরোধী প্রযুক্তিতে তৈরি।