২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে না বাজতেই নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশনের সংঘাত এক নয়া মাত্রা নিল। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের জরুরি তলবে শুক্রবার সকালেই দিল্লি পৌঁছলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে এভাবে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কেন এই তলব? সূত্রের খবর, রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে কমিশনের একাধিক নির্দেশিকা কার্যকর না হওয়াতেই রুষ্ট জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মূলত তিনটি বিষয়ে মুখ্যসচিবের কাছে জবাব চাওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে:
-
পুলিশি রদবদল: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ডিআইজি এবং এসপি পদমর্যাদার অফিসারদের বদলি কেন সম্পন্ন হয়নি?
-
ভোটার তালিকা সংশোধন: ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে জমা পড়া গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ।
-
আইন-শৃঙ্খলা রিপোর্ট: রাজ্যের স্পর্শকাতর বুথ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নবান্নের পাঠানো রিপোর্টের সঙ্গে কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের গরমিল।
নবান্ন-কমিশন সংঘাত: বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সফরের পর মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে কড়া বার্তা দিয়েছিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এমনকি প্রশাসনিক বৈঠকে আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। নন্দিনী চক্রবর্তীকে তলব করার এই ঘটনা প্রশাসনের ওপর কমিশনের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোরই একটি কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: এই তলব নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি-র দাবি, “রাজ্য সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, তাই কমিশন হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে।” অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, “বিজেপি-র নির্দেশে দিল্লি বাংলার অফিসারদের হেনস্থা করছে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ: আজ বিকেলেই নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ‘নির্ভাচন সদন’-এ মুখ্য কমিশনারের সঙ্গে নন্দিনী চক্রবর্তীর বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকে কমিশন কোনো চরম নির্দেশ দেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।