পর্দার ‘নাগিন’ কি এবার বাস্তবে? শ্রীদেবীর সেই কালজয়ী ‘নাগিনা’ সিনেমার কথা মনে আছে কি? যেখানে এক সুন্দরী মহিলা রাতারাতি সাপের রূপ নিয়ে অদৃশ্য হয়ে যেত। ঠিক তেমনই এক শিউরে ওঠা ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের ঔরাইয়া জেলা। এক তরুণীর হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া এবং তাঁর বিছানায় বিশাল এক সাপের খোলস উদ্ধার ঘিরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য।
খাটজুড়ে সাপের খোলস, পরিবারে হাহাকার ঘটনার সূত্রপাত সকালে, যখন ওই তরুণী অনেক বেলা অবধি ঘরের দরজা খোলেননি। পরিবারের লোকজন সন্দেহবশত দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই তাদের চোখ কপালে ওঠে। তরুণী উধাও, আর খাটের ওপর জামাকাপড়ের স্তূপের মাঝে পড়ে রয়েছে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি সাপের খোলস! মুহূর্তের মধ্যে রটে যায় যে, বাড়ির মেয়ে ‘নাগিন’ হয়ে গিয়েছেন অথবা কোনো অলৌকিক শক্তি তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে।
পুলিশি তদন্তে মাথায় হাত সবার! গ্রামজুড়ে যখন কুসংস্কার আর গুজবের ডালপালা ছড়াচ্ছে, তখনই আসরে নামে পুলিশ। ১১২ নম্বরে ফোন পেয়ে তদন্ত শুরু করেন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অজয় কুমার। কিন্তু তদন্ত এগোতেই সামনে আসে এক চরম চমকপ্রদ তথ্য। পুলিশ জানতে পারে, উধাও হওয়া তরুণীর সঙ্গে গ্রামেরই এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
পুরোটাই কি সিনেমার স্ক্রিপ্ট? পুলিশের দাবি, এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং নিখুঁত পরিকল্পনা করে সাজানো একটি নাটক। পরিবার ও গ্রামবাসীদের বিভ্রান্ত করতে এবং অলৌকিক ভয় দেখিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর সুযোগ তৈরি করতেই খাটের ওপর ওই সাপের খোলস রেখে গিয়েছিলেন তরুণী নিজেই। অজয় কুমার একে “পুরোপুরি সিনেমার মতো সাজানো নাটক” বলে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে তরুণীর মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে এবং পুলিশ সেই রহস্যময়ী ‘নাগিন’ ও তাঁর প্রেমিকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।