মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীরের নতুন দল গঠন এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর মাঝেই বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা। মাদক মামলায় (NDPS Act) নাম জড়ানোয় সোমবার লালগোলায় হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলাম ও তাঁর ভাই জিয়ারুল ইসলামের প্রায় ১০ কোটি ৭৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা ‘ফ্রিজ’ করল পুলিশ। বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে স্কুল, বাড়ি ও বিশাল লজ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। হুমায়ুন কবীরের কন্যা নাজমা সুলতানা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে দাবি করেছেন, তাঁর বাবার ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই আঘাত করা হয়েছে। হুমায়ুন কবীর নিজেও একে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, যেহেতু তাঁকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না, তাই পুলিশকে ব্যবহার করে তাঁর আত্মীয়দের টার্গেট করা হচ্ছে।
পাল্টা জবাবে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, এটি একটি পুরনো মামলা এবং আদালতের নির্দেশেই পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর সঙ্গে প্রতিহিংসার কোনো যোগ নেই। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসা করে যারা অঢেল সম্পত্তি বানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, মাদক কারবারিদের সম্পত্তি এভাবেই বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।