পৃথিবীর কথা ভাবলে আমাদের চোখে ভাসে দুই মেরুর বরফে ঢাকা বিশাল চাদর—উত্তরে আর্কটিক বা সুমেরু এবং দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিকা বা কুমেরু। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই দুই মেরুর বাইরেও পৃথিবীতে আরও একটি বিশাল বরফের ভাণ্ডার রয়েছে? বিজ্ঞানীরা একে ডাকেন ‘তৃতীয় মেরু’ (Third Pole) নামে। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলকেই দেওয়া হয়েছে এই বিশেষ তকমা।
কেন একে তৃতীয় মেরু বলা হয়? উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর পর এই হিমালয় অঞ্চলেই পৃথিবীর সবথেকে বেশি বরফ জমা রয়েছে। সুবিশাল পর্বতশৃঙ্গ থেকে শুরু করে কয়েক হাজার হিমবাহ (Glacier)—সব মিলিয়ে এখানে বরফের পরিমাণ এতটাই বেশি যে একে মেরু অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এই অঞ্চলে অবস্থিত হিমবাহগুলি এশিয়ার ‘ওয়াটার টাওয়ার’ বা জলের আধার হিসেবে কাজ করে।
২০০ কোটি মানুষের জীবনরেখা: হিমালয়ের এই পুরু বরফ গলা জল থেকেই জন্ম নিয়েছে গঙ্গা, যমুনা, সিন্ধু এবং ব্রহ্মপুত্রের মতো সুবিশাল সব নদী। ভারত, পাকিস্তান, চীনসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশ এই জলভাণ্ডারের ওপর নির্ভরশীল।
কৃষি ও পানীয় জল: প্রায় ২০০ কোটি মানুষ পানীয় জল থেকে শুরু করে কৃষিকাজের সেচের জন্য সরাসরি এই হিমালয়ের বরফ গলা জলের ওপর নির্ভর করেন।
সভ্যতার ধারক: প্রাচীনকাল থেকেই এই নদীগুলিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য জনপদ ও সভ্যতা।
সংকটে তৃতীয় মেরু: বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর কারণে এই ‘তৃতীয় মেরু’র বরফ আশঙ্কাজনক হারে গলতে শুরু করেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে, যদি এই বরফ গলে যায়, তবে এশিয়ার একটি বিশাল অংশ জুড়ে জলের হাহাকার দেখা দেবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। ভারতের এক বিশাল অংশ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, এই হিমালয়ের সুরক্ষা এখন পরিবেশবিদদের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।