অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এই কথাটি আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে অত্যন্ত চমকপ্রদ ও ভীতিকর এক তথ্য। গবেষকরা জানাচ্ছেন, নির্দিষ্ট সময়ে না খেয়ে ভুল সময়ে খাবার খেলে তা সরাসরি আমাদের লিভারের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির (Internal Body Clock) ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণ হতে পারে।
লিভারের নিজস্ব ঘড়ি ও প্রোটিন চক্র: লিভার আমাদের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা রক্তে সঞ্চালিত অধিকাংশ প্রধান প্রোটিন তৈরি করে। আগে ধারণা করা হতো, লিভার একটি নির্দিষ্ট এবং স্থির হারে প্রোটিন নিঃসরণ করে। কিন্তু ‘নেচার মেটাবলিজম’ জার্নালে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণা এই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। দেখা গিয়েছে, লিভারের নিজস্ব একটি ২৪ ঘণ্টার ছন্দ বা ‘সার্কাডিয়ান ছন্দ’ রয়েছে। লিভার এই ঘড়ি মেনেই নির্দিষ্ট সময়ে শরীরে প্রোটিন ছাড়ে।
শিফটে কাজ ও অনিয়মিত খাবারের ঝুঁকি: গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যাঁরা নিয়মিত শিফটে কাজ করেন কিংবা যাঁদের খাবারের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, তাঁদের লিভারের এই প্রাকৃতিক ছন্দ পুরোপুরি বিগড়ে যায়। যখনই খাওয়ার সময় ওলটপালট হয়, লিভারের প্রোটিন নিঃসরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে লিভার আর শরীরের প্রয়োজনের সাথে তাল মেলাতে পারে না।
স্থূলতা ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের যোগসূত্র: লিভারের এই ২৪ ঘণ্টার ছন্দ ব্যাহত হওয়া শুধু ক্লান্তি নয়, বরং স্থূলতা (Obesity)-র মতো মারাত্মক সমস্যার মূল কারণ হতে পারে। আণবিক স্তরে পরিচালিত এই প্রথম গবেষণায় দেখা গিয়েছে, লিভারের প্রোটিন চক্রের গোলমাল সরাসরি মেটাবলিজমকে প্রভাবিত করে। ফলে ওজন বৃদ্ধি এবং মেদ জমার মতো সমস্যা তৈরি হয়। সুস্থ থাকতে গবেষকদের পরামর্শ—কেবল কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেদিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।