ভূমিকম্পের পর আফটার শকের কথা আমাদের সবারই জানা। কিন্তু একটানা চারদিন ধরে যদি পৃথিবী কাঁপতে থাকে, তবে তাকে কী বলা হবে? পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমে এখন ঠিক এই ভয়াবহ পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাহাড়ি এই রাজ্যটি মোট ৩৯ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৩ থেকে ৪-এর মধ্যে থাকলেও, এই নিরন্তর কম্পন বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত শুক্রবার গভীর রাতে প্রথমবার কেঁপে ওঠে সিকিম, যার প্রভাব অনুভূত হয়েছিল উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এরপর মাত্র ৪ ঘণ্টা ১২ মিনিটের ব্যবধানে পরপর ১২টি ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হয়। মঙ্গলবার সকালেও নামচি ও মঙ্গন এলাকায় কম্পন থামেনি। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ভূতত্ত্ববিদরা ‘ফোর শক’ (Foreshock) হিসেবে চিহ্নিত করছেন। সাধারণ অর্থে, বড় কোনো বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ঠিক আগে এই ধরণের ঝাঁকে ঝাঁকে ছোট কম্পন বা ‘আর্থকোয়াক সোয়ার্ম’ দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যত্রতত্র বহুতল নির্মাণ, বিশাল জলাধার তৈরি এবং পাহাড়ের বুক চিরে রেলপথ তৈরির জন্য ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গুহাপথ নির্মাণই হয়তো প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের নেপথ্যে রয়েছে। সিকিম সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ইতিমধ্য়েই রাজ্যবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
যেহেতু সিকিম পশ্চিমবঙ্গের একেবারে লাগোয়া এবং সারা বছর হাজার হাজার বাঙালি পর্যটক সেখানে ভিড় করেন, তাই এই পরিস্থিতি বাংলার জন্যও উদ্বেগের। সিকিমে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব উত্তরবঙ্গ সহ সমতলেও পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।