অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক দুর্ধর্ষ চোরকে গ্রেফতার করে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে পুলিশ কর্তাদের। ২৭ বছরের ওই যুবক কোনো পেশাদার অপরাধী নয়, বরং হায়দরাবাদের এক নামী তথ্যপ্রযুক্তি (IT) সংস্থার কর্মী। বিলাসবহুল জীবনযাপন, বিএমডব্লিউ গাড়ি কেনা আর দফায় দফায় বিদেশ ভ্রমণের বিপুল খরচ জোগাতে রাতের অন্ধকারকেই নিজের উপার্জনের মূল পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
আইটি ইঞ্জিনিয়ার থেকে সিরিয়াল চোর: পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম আচ্চি মহেশ রেড্ডি ওরফে সানি। কাকিনাড়ার বাসিন্দা সানি বর্তমানে ভাইজাগের মাধবধারা এলাকায় থাকতেন। উচ্চশিক্ষিত এবং স্বনামধন্য আইটি কোম্পানিতে ভালো বেতনে চাকরি করা সত্ত্বেও তাঁর শখ ছিল আকাশছোঁয়া। সেই শখ মেটাতেই তিনি শুরু করেন চুরি ও ডাকাতি। বিশাখাপত্তনম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যে ৬০টি চুরির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
কীভাবে হাতেনাতে ধরা পড়ল সানি? দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে রাতের বেলা সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা বাড়ছিল। সানিকে গ্রেফতারের পর অন্তত ২৬টি মামলার জট খুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সানির কাছ থেকে চুরির টাকায় কেনা একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি, একটি নম্বরহীন স্কুটার এবং বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপো উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬৯৯ গ্রাম সোনা এবং ৩.৮ কেজি রুপো।
পুলিশের পর্যবেক্ষণ: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সানি মূলত গয়না এবং নগদ টাকার দিকেই নজর দিতেন। গ্রেফতারের পর প্রায় ১৫.৬৩ লক্ষ টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একজন উচ্চশিক্ষিত যুবকের এই অপরাধী মানসিকতা এবং বিলাসবহুল জীবনের প্রতি অন্ধ মোহ দেখে হতবাক সাইবার সিটি ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা।





