মৃত্যুর পর মায়ের চক্ষুদান করে কি চরম ভুল করলেন ছেলে? মৃত মায়ের চোখ বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো এক স্কুল শিক্ষক তথা সমাজকর্মীকে। নদীয়ার কোতোয়ালি থানা এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের অতি-সক্রিয়তা এবং সামাজিক সচেতনতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ধৃত শিক্ষকের নাম আমির চাঁদ শেখ। সম্প্রতি তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়। মায়ের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে নিয়ম মেনে চক্ষুদান করেন আমির। ওই সংস্থাটি সেই চোখ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় এবং তার বৈধ রসিদও আমিরকে দেওয়া হয়। কিন্তু পাড়ারই ৫-৭ জন গ্রামবাসী অভিযোগ তোলেন যে, আমির তাঁর মায়ের চোখ বিক্রি করে দিয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ আমিরকে গ্রেফতার করে।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: আমির চাঁদ শেখের দাবি, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। একটি জমি নিয়ে গ্রামবাসীদের একাংশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। আমিরের বক্তব্য, “হিংসা থেকেই ওরা এই কাজ করেছে। আমার চাকরিটা খাওয়ার জন্য এই ষড়যন্ত্র।” খোদ সিএমওএইচ (CMOH) রঞ্জিত কুমার দাস জানিয়েছেন, চক্ষুদানের নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনেই সবটা হয়েছে, এখানে বিক্রির কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
চিকিৎসক মহলের উদ্বেগ: বিশিষ্ট চিকিৎসক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, চক্ষুদানের মতো মহৎ কাজে মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছনো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। যথাযথ প্রচারের অভাবেই এই ধরনের ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন একজন শিক্ষককে এভাবে গ্রেফতার করা হলো, তা নিয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ভূমিকা এখন কাঠগড়ায়।