পদ্মা-গঙ্গার গ্রাস থেকে মুক্তি! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কপাল খুলল শয়ে শয়ে পরিবারের

নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে যারা বছরের পর বছর খোলা আকাশের নীচে কিংবা ত্রিপল টাঙিয়ে দিন গুজরান করছিলেন, তাঁদের জন্য এল দীর্ঘপ্রতীক্ষিত সুখবর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মুর্শিদাবাদের লালগোলা ব্লকের নদীভাঙন কবলিত পরিবারগুলির হাতে তুলে দেওয়া হল সরকারি জমির পাট্টা। পদ্মা ও গঙ্গার ভাঙনে ভিটেমাটি এবং চাষের জমি হারানো এই পরিবারগুলি এখন স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্ন দেখছে।

লালগোলা ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তারানগর এলাকার বিভিন্ন মৌজায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দুই শতক করে জমির পাট্টা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফায় ৫৪টি পরিবারকে পাট্টা দেওয়া হলেও, বর্তমানে মোট ১২৩টি পরিবার এই সুবিধার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে দেওয়ানসরাই গৌরীদাসপুর মৌজার ২৩টি পরিবার, কাত্তিকপুর মৌজার ২১টি এবং কালমেঘা গ্রাম পঞ্চায়েতের হোসনাবাদ এলাকার ২৮টি পরিবার রয়েছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে হাতে জমির কাগজ পেয়ে অনেক প্রাপকের চোখেই জল। এক পাট্টা প্রাপক আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “নদী আমাদের সব নিয়ে গিয়েছিল। আজ সরকার জমির কাগজ দিয়েছে, মনে হচ্ছে আবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পেলাম।”

তবে সব ক্ষেত্রে ছবিটা একই রকম নয়। কিছু পাট্টা প্রাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাঁদের যে জমি দেওয়া হয়েছে তা নদী সংলগ্ন এবং বসবাসের জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। যদিও প্রশাসনের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে যোগ্য সকলকেই পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই জমির পাট্টা হাতে পাওয়ার ফলে ওই পরিবারগুলির জন্য এখন ‘বাংলার আবাস যোজনায়’ পাকা বাড়ি পাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। প্রশাসন জানিয়েছে, মোট ১৩৪টি পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে সিংহভাগ কাজই সম্পন্ন। মুর্শিদাবাদের এই উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর জন্য এই সরকারি পদক্ষেপ জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy