শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে ডাবগ্রাম ১২ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে ট্রেনিং চলাকালীন এক সিভিক ভলান্টিয়ারের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। মৃত ভলান্টিয়ারের নাম পঙ্কজ বর্মন (৩৬)। তিনি কোচবিহারের মাথাভাঙা থানার কর্মী ছিলেন। সোমবার ভোরে ব্যারাক থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর সহকর্মীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্প চত্বর।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: রবিবার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৭৫০ জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে বিশেষ ট্রেনিংয়ের জন্য এই ক্যাম্পে আনা হয়েছিল। সহকর্মীদের অভিযোগ, সোমবার সকালে পঙ্কজকে ডাকতে গেলে দেখা যায় তিনি নিস্পন্দ হয়ে পড়ে আছেন। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে যে, খবর দেওয়ার পরেও দীর্ঘ ২ ঘণ্টা কোনো অ্যাম্বুল্যান্স আসেনি। শেষে পুলিশের ভ্যানে করে দেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অন্য সিভিকরা। তাঁদের দাবি, সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে হয়তো পঙ্কজকে বাঁচানো যেত।
উগরে দেওয়া ক্ষোভ: এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সিভিক ভলান্টিয়াররা রাজ্য সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, মাত্র ১১ হাজার টাকা বেতনে হাড়ভাঙা খাটুনি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মানসিক চাপ তাঁদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। এক ভলান্টিয়ারের দাবি, “ট্রেনিংয়ে আসার জন্য হাজার টাকা ধার করতে হয়েছে, অথচ এখানে এসেই খাওয়ার খরচ বাবদ ৮১০ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলেই বদলি বা কাজ হারানোর হুমকি দেওয়া হয়।”
ডিসিপি রাকেশ সিং জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনা সিভিক ভলান্টিয়ারদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে ফের প্রকাশ্যে এনে দিল।