২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে বামেদের অন্দরের কোন্দল এবার প্রকাশ্যে। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে অভব্য আচরণ এবং বৈঠকের গোপনীয়তা রক্ষার অভাব— এই জোড়া অভিযোগে বামফ্রন্টের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন ফরওয়ার্ড ব্লক রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নরেনবাবুর সাম্প্রতিক আচরণ আদতে ‘অকমিউনিস্ট সুলভ’।
আসন নিয়ে দড়িটানাটানি: রবিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিআইএম ও ফরওয়ার্ড ব্লকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হওয়ায় শরিক দলগুলি বেশি আসনের প্রত্যাশা করছে। বৈঠকে ফরওয়ার্ড ব্লকের তরফে ২৬ থেকে ২৮টি আসনের দাবি জানানো হয়েছে। তবে বিমান বসু ও মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শুধু দাবি করলেই হবে না; তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণ করতে হবে ওই আসনগুলোতে জেতার মতো সাংগঠনিক শক্তি ফরওয়ার্ড ব্লকের আছে কি না।
তর্কাতর্কি ও ভর্ৎসনা: গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্রন্টের বৈঠকে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে নরেন চট্টোপাধ্যায়ের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। বৈঠক ছেড়ে মাঝপথে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলায় নরেনবাবুর ওপর বেজায় চটেছেন বিমান বসুরা। রবিবারের বৈঠকে তাঁকে স্পষ্ট জানানো হয়, দলের অভ্যন্তরের কথা বাইরে আনা বামপন্থী শিষ্টাচারের বিরোধী। যদিও বৈঠক শেষে নরেন চট্টোপাধ্যায় সমস্ত দায় সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপিয়ে বলেন, “আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, সংবাদমাধ্যমই বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করেছে।”
মিম বিতর্ক ও সুজন চক্রবর্তীর সাফাই: এদিকে, মিমের সঙ্গে সিপিআইএমের জোট নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন সুজন চক্রবর্তী। মিম নেতা ইমরান সোলাঙ্কির দাবি নস্যাৎ করে সুজনবাবু বলেন, “ওরা আরএসএস-এর হয়ে কাজ করে। মিমের সঙ্গে জোট করার জন্য সিপিআইএম ঝাঁপিয়ে পড়েছে, এমন খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”