জানুয়ারি শেষ হতে না হতেই দোরগোড়ায় পরীক্ষার মরসুম। আর পরীক্ষা মানেই বাড়ির আবহাওয়া বদলে যাওয়া—চুপচাপ চারপাশ, থমথমে মুখ আর গাদা গাদা বই। তবে এই সময় টেনশন শুধু পড়ুয়াদের নয়, তার চেয়েও বেশি চাপে থাকেন অভিভাবকরা। কিন্তু জানেন কি, আপনার এই উদ্বেগ অজান্তেই বাচ্চার পারফরম্যান্স নষ্ট করে দিচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষার সময় সবচেয়ে জরুরি হলো শিশুর মানসিক স্থিরতা। মন শান্ত থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পড়াও দ্রুত মুখস্থ হয়।
গবেষণা কী বলছে? Journal of Adolescent Health-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অভিভাবকদের অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা বাচ্চাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি তৈরি করে। “তোমাকে ওর চেয়ে বেশি নম্বর পেতেই হবে”—এই একগুঁয়েমি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। গবেষকদের মতে, এই সময় নেতিবাচক কথা নয়, বরং ইতিবাচক উৎসাহ দেওয়া জরুরি।
ঘুম ও রুটিনের গুরুত্ব: অনেকেরই শেষ মুহূর্তে রাত জেগে পড়ার অভ্যাস আছে। কিন্তু Journal of Educational Psychology জানাচ্ছে, রাত জাগলে পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পর্যাপ্ত ঘুম ও সঠিক রুটিনেই মনসংযোগ বাড়ে। অন্যদিকে, Sleep Medicine Reviews-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘুমের অভাবে শিশুদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং একাগ্রতা নষ্ট হয়। তাই পরীক্ষার সময় অন্তত ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম মাস্ট!
মন শান্ত রাখার সহজ উপায়: ১. মাইন্ডফুলনেস ও যোগব্যায়াম: নিয়মিত মেডিটেশন ও গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস শিশুদের স্ট্রেস কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ২. শরীরচর্চা: সারাদিন শুধু বই নিয়ে বসে না থেকে একটু হাঁটাচলা বা হালকা খেলাধুলা করলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন কমে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে। ৩. খাদ্যাভ্যাস: Nutrients Journal-এর গবেষণা বলছে, চিনি বা জাঙ্ক ফুড মানসিক অস্থিরতা বাড়ায়। পরিবর্তে ডিম, প্রোটিন, ফল ও শাকসবজি মস্তিষ্কের জন্য সঞ্জীবনী সুধার কাজ করে।