এক অদ্ভুত এবং আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল স্থানীয় একটি সরকারি বিদ্যালয়। সচরাচর স্কুল চত্বরে গরু বা গবাদি পশুর আনাগোনা অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু এদিনের ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি বিশালাকার ষাঁড় বা উন্মত্ত গরুর আকস্মিক অনুপ্রবেশে মুহূর্তের মধ্যে স্কুলের স্বাভাবিক ছন্দ ওলটপালট হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, প্রাণভয়ে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ স্কুলের ভেতরেই তালাবন্ধ অবস্থায় থাকতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাস চলাকালীন হঠাৎই একটি গরু প্রচণ্ড গতিতে স্কুলের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রাণীটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল এবং সামনে যা পাচ্ছিল তাতেই ঢুঁ মারার চেষ্টা করছিল। মাঠের মধ্যে খেলতে থাকা কিছু ছাত্র অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়। বিপদ বুঝে স্কুলের শিক্ষকরা দ্রুত তৎপরতা দেখান এবং সব পড়ুয়াদের ক্লাসরুমের ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এমনকি প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীরাও নিজেদের অফিস ঘরে তালাবন্ধ করে নিতে বাধ্য হন।
স্কুলের বাইরে তখন ওই পশুটির তাণ্ডব চলছে। বারান্দায় রাখা আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বাগান—সবই লণ্ডভণ্ড করে দেয় সেটি। অভিভাবকরা এই খবর পেয়ে স্কুলের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি। স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে পশুটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অবশেষে স্থানীয় প্রশাসন এবং বনদপ্তরের সহযোগিতায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় বড় কোনো চোট না লাগলেও পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।